সর্বশেষ

শিক্ষা

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের 'কমপ্লিট শাটডাউন': উত্তাল সারাদেশ, তদন্ত কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ৬:৩৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার ইতিহাসে গতকাল (বৃহস্পতিবার) একটি স্মরণীয় ও উত্তাল দিন পার হয়েছে।

দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে পালিত হয়েছে শিক্ষার্থীদের 'কমপ্লিট শাটডাউন অব ইঞ্জিনিয়ার্স' কর্মসূচি। তিন দফা দাবিতে এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভে অংশ নেন।

'ইঞ্জিনিয়ার্স রাইটস মুভমেন্ট' প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচির ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়েও। ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।

বুয়েটে বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকা সত্ত্বেও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাগুলো শিক্ষার্থীরা বর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৩০ আগস্ট থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব স্নাতক পরীক্ষাও স্থগিত ঘোষণা করেছে।

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের তিনটি মূল দাবি হলো:

নবম গ্রেডে (সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান) প্রবেশে শুধুমাত্র মেধাক্রমে উত্তীর্ণ ও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীদের সুযোগ দিতে হবে।
কোটাভিত্তিক পদোন্নতি এবং অন্য নামে সমমান পদ সৃজন বন্ধ করতে হবে।
টেকনিক্যাল দশম গ্রেডে (উপসহকারী প্রকৌশলী বা সমমান) ডিপ্লোমা ও বিএসসি ডিগ্রিধারীদের জন্য সমান সুযোগ দিতে হবে এবং বিএসসি ডিগ্রি ছাড়া কেউ প্রকৌশলী পদবি ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাজপথে শিক্ষার্থীরা, ঢাকায় উত্তেজনা
শাহবাগে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও পদযাত্রার সময় উত্তেজনা ছড়ায়। বুয়েট শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র দিকে পদযাত্রা শুরু করলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই ঘটনায় সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।


ডিএমপির তদন্ত কমিটি গঠন
ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অতিরিক্ত কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে বলপ্রয়োগের যৌক্তিকতা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করবে।


জেলার খবর: রাজশাহী থেকে খুলনা পর্যন্ত প্রতিবাদ
রাজশাহীতে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন, যেখানে রুয়েট শিক্ষার্থীরাও যুক্ত হন। নাটোরে টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (বাউয়েট) শিক্ষার্থীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। খুলনায় কুয়েট প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সম্মতিতে ক্লাস-পরীক্ষা চালিয়ে গেলেও আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন তারা।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও গায়েবানা জানাজার আয়োজন করেন।


সরকারি কমিটির বৈঠক ও পরবর্তী কর্মসূচি

প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ও ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের অবস্থান নির্ধারণে সরকারের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে সরকারি নিয়োগে ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেওয়া সংস্থার প্রধান ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের চারজন প্রতিনিধি থাকবেন।

অন্যদিকে, আন্দোলনকারীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত চলমান শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়। এছাড়া বিভাগীয় সমাবেশ এবং শেষে ঢাকায় জাতীয় মহাসমাবেশের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন 'ইঞ্জিনিয়ার্স রাইটস মুভমেন্ট' নেতারা।

প্ল্যাটফর্মের সভাপতি মো. ওয়ালি উল্লাহ বলেন, “সরকার এখনো আমাদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন করেনি। আন্দোলন চলবে যতক্ষণ না পর্যন্ত দাবি পূরণ হয়।”

১০৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন
শিক্ষা নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন