৪ দিনেও সংস্কার হয়নি খোলপেটুয়া নদীর বেঁড়িবাধ, প্লাবিত ১০ গ্রাম

বৃহস্পতিবার , ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর ভাঙন কারণে বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ গত চার দিনেও সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।
হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে গত দুই দিন ধরে বিকল্প রিংবাধ তৈরি করার চেষ্টা করলেও তারা সফল হয়নি। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োজিত ঠিকাদারের লোকজন জিও ব্যাগে বালু ভরে বিকল্প রিংবাধ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে, যার তদারকি করছে সেনাবাহিনীর একটি দল। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে, ভাঙনের কারণে হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের এবং ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে, এবং শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং স্থানীয় মানুষ এখন রাত কাটাচ্ছেন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে। অনেকেই বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছেন, এবং তাদের গৃহস্থলির জিনিসপত্র, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত।
স্থানীয়রা জানান, গত ৩১ মার্চ ঈদের দিন সকালে, ঈদের নামাজের পর খোলপেটুয়া নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধের একটি বড় অংশ প্রায় ২০০ ফুট এলাকা জুড়ে ভেঙে যায়, যা আতঙ্কের সৃষ্টি করে গোটা আনুলিয়া ইউনিয়নে। এই ঘটনায় ঈদের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে হতাশায় পরিণত হয়। গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমে চেষ্টা করেও বাঁধ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। বর্তমানে, প্রায় ১,২০০ পরিবারের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। চারশতাধিক মৎস্য ঘের এবং ৭০০ থেকে ৮০০ বিঘা কৃষিজমি পানির নিচে চলে গেছে।
বিধ্বস্ত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে নয়াখালী, বিছট, বল্লবপুর, বাসুদেবপুর, আনুলিয়া, চেচুয়া, কাকবাশিয়া, মীর্জাপুর এবং চেউটিয়া। এই পরিস্থিতিতে, স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন যে দ্রুত সংস্কার না হলে পাশের খাজরা এবং বড়দল ইউনিয়নও প্লাবিত হয়ে পড়বে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এবং সেনাবাহিনী ভাঙন কবলিত এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত বাঁধ সংস্কারের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেড়িবাঁধের দুর্বলতার মূল কারণ মৎস্য ঘেরে পানি তোলার জন্য অবৈধভাবে বাঁধের নিচ দিয়ে পাইপ ব্যবহার করা। তাদের দাবি, এই পদ্ধতি বন্ধ করতে হবে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা এসএম শওকত হোসেন জানান, ঈদের সময় তারা জানতে পারেন যে বিছট গ্রামের বাঁধটি ভেঙে গেছে এবং পানির স্রোতে গ্রামে ঢুকছে। তারা সেখানে গিয়েও বাঁধ সংস্কার করতে পারেননি। ফলে, খোলপেটুয়া নদীর পানি এখন ১০টি গ্রাম প্লাবিত করেছে।
বাঁধ সংস্কারের কাজটি আজ বুধবার থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদাররা জিও ব্যাগে বালি ভরে রিংবাধ নির্মাণের কাজ করছে এবং সেনাবাহিনী তাদের তদারকি করছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে শ্রমিক সংকট এবং বালু আনার ক্ষেত্রে কিছু দেরি হওয়ায় কাজ শুরু হতে কিছু সময় লেগেছে, তবে দ্রুত মেরামত কাজ শেষ করা হবে।
১১১ বার পড়া হয়েছে