সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৮৬ জনে

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫ ৫:৪৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
মিয়ানমারে সম্প্রতি সংঘটিত ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২,৮৮৬ জনে পৌঁছেছে, এবং আহতের সংখ্যা ৪,৬৩৯ জনেরও বেশি।

এছাড়া, ৩৭৩ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ভূমিকম্পের সময় মসজিদে অবস্থানরত সাত শতাধিক মুসল্লি নিহত হয়েছেন। দুর্যোগের ফলে দুর্গম এলাকায় জরুরি সাহায্যের অভাব এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। থাইল্যান্ডে মৃতের সংখ্যা ২২ জনে পৌঁছেছে, এবং সেখানে শত শত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৭২ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

আলজাজিরা জানাচ্ছে, মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যেও উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। সিনহুয়া সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চীনা দূতাবাস স্থানীয় রেড ক্রসকে ১.৫ মিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ২,০৬,৬৮৫ ডলার) নগদ সহায়তা পাঠিয়েছে।

এদিকে, চীনা রেড ক্রসের একটি ত্রাণবহর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গুলিতে আক্রান্ত হয়েছে। বিবিসি রিপোর্ট করছে, মঙ্গলবার রাতে ভূমিকম্পের পর ত্রাণ নিয়ে আসা একটি দলের ওপর গুলি চালানো হয়। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দাবি, এটি একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছিল, কারণ তাদের জানানো হয়নি যে, বহরটি ওই এলাকা দিয়ে যাবে। তবে, কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের উদ্ধারকারী দল এবং ত্রাণ কার্যক্রম নিরাপদভাবে চলমান রয়েছে এবং বেইজিং আশা করছে, মিয়ানমারের সব পক্ষ ভূমিকম্পের পরবর্তী ত্রাণ কাজকে অগ্রাধিকার দেবে।

ভূমিকম্পের কারণে মিয়ানমারের ছয়টি অঞ্চলের ২৮ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জরুরি তহবিল হিসেবে ১২ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে, যা খাদ্য, আশ্রয়, পানি, স্যানিটেশন, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবার জন্য ব্যবহার হবে। বুধবার, মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে একটি হোটেলের ধ্বংসাবশেষ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, যেসব এলাকায় বিদ্রোহী এবং জান্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চলছে, সেসব এলাকায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা 'হিউম্যান রাইটস ওয়াচ' জান্তা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন ত্রাণ সংস্থাগুলোর জন্য প্রবেশাধিকার সীমিত না করে এবং সাহায্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি না করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূমিকম্প মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের জন্য কূটনৈতিক দিক থেকে একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর মাধ্যমে কূটনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে পারে। থাই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিন অং হ্লাইং আগামী শুক্রবার ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে (৩-৪ এপ্রিল) যোগ দেবেন, যেখানে সদস্য দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড। সিঙ্গাপুর ভিত্তিক বিশ্লেষক আংশুমান চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারত, চীন এবং রাশিয়া ভূমিকম্পের পরিস্থিতি ব্যবহার করে নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইবে।

ভূমিকম্পের পর, জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে কথা বলেছেন, এবং এসব দেশ থেকে ত্রাণ সহায়তা ইতোমধ্যেই মিয়ানমারে পৌঁছেছে। শত শত উদ্ধারকর্মীও সেখানে পৌঁছেছে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের জান্তা সরকারের কূটনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে, এবং সামরিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক চাপ বেড়ে চলেছে।

১২৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন