সিলেটের সাবেক মেয়রসহ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের তিন নেতার বাসায় হামলা, ভাঙচুর

বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫ ৫:৪১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের সাবেক মেয়রসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতার বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার সকালে নগরের ধোপাদিঘিরপাড় এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, এবং পরবর্তীতে বিকেলে এ হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পাঠানটুলা এলাকার আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসায় ৭০ থেকে ৮০টি মোটরসাইকেলে করে শতাধিক তরুণ-যুবক হামলা চালান। হামলাকারীরা বাসায় প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট ঘটান। উল্লেখযোগ্য যে, ওই সময় আনোয়ারুজ্জামানের পরিবারের কেউ বাসায় ছিলেন না, শুধু দুজন তত্ত্বাবধায়ক বাসার দেখাশোনা করছিলেন।
এছাড়া, একইভাবে শুভেচ্ছা আবাসিক এলাকায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরীর বাসভবন এবং মেজরটিলা এলাকায় ছাত্রলীগের সভাপতি রুহেল আহমদের বাসায় হামলা চালানো হয়। রুহেলের বাসার হামলার সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথে ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
হামলার পরপরই আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসায় সংঘটিত ভাঙচুরের চিত্র দেখা যায়। বিভিন্ন কক্ষে আসবাবপত্র ও ভাঙা কাচের টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। আসবাবপত্রের বিপর্যয়ের মধ্যে আলমারি, চেয়ার, টেবিল, ফ্রিজ এবং এসি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্থানীয় এক সূত্র জানায়, বুধবার সকালে ছাত্রলীগের ব্যানারে কিছু তরুণ ঝটিকা মিছিলের আয়োজন করেছিলেন, যা পরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হিংসাত্মক হামলায় রূপ নেয়। প্রবল ক্ষোভের কারণে তারা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের বাড়িতে হামলা চালান। হামলার সময় অন্তত চারজন ব্যক্তি হামলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ দেখতে পেয়েছেন।
এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষের ফোন কলের কোনো জবাব দেননি। সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি জানেন না এবং তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। জানা গেছে, আনোয়ারুজ্জামান ৫ আগস্টের পর লন্ডনে চলে যান, এবং শফিউল আলম কলকাতায় অবস্থান করেছেন। রুহেলও দেশের বাইরে রয়েছেন।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমি শুনেছি এবং আক্রান্তদের সম্পর্কে তদন্তের চেষ্টা চলছে।"
১৪১ বার পড়া হয়েছে