সর্বশেষ

জাতীয়

আবারও দেশে বার্ড ফ্লু, আতঙ্কিত না হয়ে খামারে বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ২৬ মার্চ, ২০২৫ ১:০০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
২০১৮ সালের পর এবার প্রথম এই ফ্লু দেখা দিলেও, বিষয়টি নিয়ে খামারিদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং বার্ড ফ্লু প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পোলট্রি খামারিদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি চলছে এবং সন্দেহজনক বা মৃত হাঁস-মুরগি বা পাখি পাওয়া গেলে দ্রুত নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করার পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান জানান, যশোরের সরকারি খামারে গত ১২ মার্চ বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে এবং পরীক্ষা করার জন্য নমুনাগুলি বিদেশে পাঠানো হবে। তবে, তিনি বলেন যে ফ্লুর প্রভাব মৃদু আকারে দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, তারা দ্রুত সরকারি খামারগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং পোলট্রি খামারিদের সংগঠনকেও সতর্ক থাকতে বলেছেন যাতে নিরাপত্তা, ভ্যাকসিনেশন এবং পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা যায়।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং এই সময় বিশেষায়িত ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই এবং বার্ড ফ্লুর পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভিন্ন। ক্রেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন, তারা যেন আতঙ্কিত হয়ে হাঁস-মুরগি বা ডিম খাওয়া বন্ধ না করেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার জানান, মার্চ মাসের শুরুতেই এই বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং ফ্লুর বিস্তার ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে যশোরের খামারে তিন হাজার ৯৭৮টি মুরগির মধ্যে এক হাজার ৯০০টি মারা গেছে এবং বাকি মুরগি গুলি ফ্লু ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতে মেরে ফেলা হয়েছে। ২০০৭ সালে প্রথম বাংলাদেশে বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছিল এবং সে সময় ১০ লাখেরও বেশি মুরগি মেরে ফেলা হয়েছিল। ২০০৮ সালে মানুষের শরীরে বার্ড ফ্লু সংক্রমণ ধরা পড়েছিল।

দেশের পোলট্রি খাত দেশের মাংসের মোট চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি যোগান দেয়। বর্তমানে দেশে ৯৫ হাজার ৫২৩টি পোলট্রি খামার রয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং ডলার সংকটের কারণে প্রাণিজ খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে, ফলে করোনার পর থেকে ৬২ হাজার ৬৫৬টি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, যদি বার্ড ফ্লু আরও বিস্তার লাভ করে, তবে পোলট্রি খাতের জন্য এটি আরও একটি বড় সংকট হতে পারে। তাই, সরকারকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, নতুবা খামারি ও পোলট্রি খাত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।

১৩৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন