সর্বশেষ

জাতীয়

ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০২৫ ১:৫৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
মহান স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেয়া ভাষণে জাতির কাছে দেশের চলমান অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, দুর্নীতি ও গণহত্যাকারীদের বিচারসহ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। 

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচন এ বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে গড়ে উঠবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা সকল ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি। গুজব হলো পরাজিত শক্তির অন্যতম বড় হাতিয়ার। গুজব দেখলেই তার উৎস অনুসন্ধান করতে হবে এবং তা প্রতিহত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “পলাতক শক্তি জাতীয় ঐক্য ভাঙতে কাজ করছে, তবে আমাদের ঐক্য ও সচেতনতার মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।”

অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও উন্নতি
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে। রমজানে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ জনগণের স্বস্তি এনেছে।

তিনি বলেন, “গত ১৬ বছরের লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ২২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ৯.৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। আশা করছি, এটি জুন মাসের মধ্যে ৮ শতাংশের নিচে নেমে আসবে।”

অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, “প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি এনেছে। প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য সব প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেও আমরা কাজ করছি।”

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। বিগত সরকার দুর্নীতিকে শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা দেশের সুনাম ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, “আমরা দুর্নীতিমুক্ত হতে না পারলে জাতি হিসেবে এগোতে পারব না। এই লক্ষ্য অর্জনে আন্তরিকভাবে কাজ করছি।”

তিনি জানান, বিগত সরকারের সময় করা ৬,২৯৫টি হয়রানিমূলক মামলা এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে করা ৪১৩টি মামলা ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিক বান্ধব সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্বের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। চীনে তাঁর আসন্ন সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংসহ বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হবে। বাংলাদেশ থেকে আম, কাঁঠাল, ও পেয়ারা রপ্তানির বিষয়ে আলোচনা হবে।

তিনি জানান, স্টারলিংকের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশে স্বল্পমূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা শুরু করতে তিন মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি চূড়ান্ত হবে।

সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সংস্কার
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থান দেশের পটভূমি বদলে দিয়েছে। আমরা নারীর উন্নয়ন এবং সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিগত বৈচিত্র্যের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। সব দলের মতামতের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করা হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য পৃথক অধিবেশন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, “গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে।”

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমরা বাংলাদেশ নিয়ে নতুন করে ভাবতে চাই। নতুন বাংলাদেশের ভাবনায় নারীর ক্ষমতায়ন, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার দিকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।”

 

ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে উল্লেখ করে আগামী জুনের মধ্যে এটি ৮ শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

১৩৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন