গণহত্যার ২৫ মার্চ আজ, রাতে ১ মিনিট প্রতীকী ব্ল্যাক আউট

মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০২৫ ২:৫২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় ‘কালরাত’ হিসেবে চিহ্নিত।
রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক নৃশংস অভিযান শুরু করে, যা ছিল বাঙালির ওপর অত্যাচারের এক তীব্র মুহূর্ত। নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তানি সেনারা এক হত্যাযজ্ঞ চালায়। আজ সেই ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
এই বিশেষ দিবসটি যথাযোগ্য শ্রদ্ধা ও মর্যাদায় স্মরণ করতে, জাতীয় পর্যায়ে একাধিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল আজ রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাক আউট। কেবল কেপিআই বা জরুরি স্থাপনা ছাড়া, অন্যান্য সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে আলো নিভিয়ে দেওয়া হবে।
গণহত্যা দিবসের উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস একটি বাণী প্রদান করেছেন। তিনি শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে বলেন, "একাত্তরের মার্চে বাংলাদেশের আন্দোলন যখন তীব্রতর, তখন ২৫ মার্চ রাতে ইয়াহিয়া খান গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। এবং সেদিন মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনারা অপারেশন সার্চলাইট চালিয়ে ঘুমন্ত-নিরস্ত্র মানুষের ওপর ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালায়।"
তিনি আরো বলেন, "স্বাধীনতার পর যে বাংলাদেশ আমরা চেয়েছিলাম, সেখানে স্বৈরাচারের শাসনে মানুষের মৌলিক অধিকার ছিল না। কিন্তু ১৯৭৫ সালে গণ-অভ্যুত্থানে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে এই দেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করে।"
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই বাঙালিরা বুঝতে শুরু করে, তাদের নানা দিক থেকে পশ্চিম পাকিস্তানির শাসকদের দ্বারা শোষিত হতে হচ্ছে। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, গণ-অভ্যুত্থান—এ সব আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির মধ্যে স্বাধিকার চেতনা জাগে। ১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালির দাবিকে উপেক্ষা করে নানা শোষণমূলক পদক্ষেপ নিলেও, এ সময় থেকেই বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
২৫ মার্চ, ১৯৭১, যখন পাকিস্তানি সেনারা অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে, ঢাকাসহ সারা দেশে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করতে থাকে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাকিস্তানি সেনারা সন্ত্রাসী আক্রমণ শুরু করে, আগুন দেওয়া হয় জনবসতিতে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, এবং রাতের অন্ধকারে ঢাকা হয়ে ওঠে মৃত্যুর নগরী।
আজকের দিনটি যথাযথভাবে স্মরণ করতে, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণহত্যার স্মৃতিচারণা ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হবে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সেমিনারও অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে প্রদর্শিত হবে গণহত্যা সম্পর্কিত দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র।
এছাড়া, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে শহীদদের স্মরণে আজ বাদ জোহর বা সুবিধাজনক সময়ে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে এবং অন্যান্য উপাসনালয়েও প্রার্থনা করা হবে। এই দিনটির স্মরণে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।
১৩০ বার পড়া হয়েছে