সাতক্ষীরা জামায়াতের ইফতার মাহফিলে দেশের স্বার্থে ঐক্য অটুট রাখার প্রত্যয়

সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫ ৯:০২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের স্বার্থে অনবদ্য ঐক্য বজায় রাখার সংকল্প নিয়ে সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলামীর, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-নেত্রীরা জানান দিয়েছেন যে, তারা রাজনৈতিক বিদ্বেষের বিরুদ্ধে জেগে উঠবেন এবং সহনশীলতা ও পরমত সহিষ্ণুতার মধ্য দিয়ে চলবে।
তারা উল্লেখ করেন, জুলাই বিপ্লবের শহিদদের রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি এবং বর্তমান সময়ে দেশের আকাশে আবারও কালো শকুনের ছায়া দেখা যাচ্ছে। এই কালো শকুন যেন আমাদের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে একত্রিত থাকতে হবে। সাতক্ষীরা ও দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের একত্রিত থাকতে হবে। তাদের লক্ষ্য হলো, এমন একটি বাংলাদেশ গড়া যেখানে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা অটুট থাকবে। তারা জানিয়ে দেন, কেউ যেন আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। এজন্য তাদের ঐক্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই।
১৯৯১ সাল থেকে বিএনপি ও জামায়াত সম্মিলিতভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং তারা বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একসঙ্গে ছিল এবং এখনো আছে। যদিও তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন, তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে তারা আপোষহীনভাবে একত্রিত থাকবে।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতারা এই চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেন। ইফতার মাহফিলটি রবিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের পাশে পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মুহাঃ ইজ্জত উল্লাহ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমীর শহিদুল ইসলাম মুকুল এবং সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর শত শহীদের বিনিময়ে আমরা আবার এক হতে পেরেছি, এবং আজ অবাধে কথা বলার অধিকার ফিরে পেয়েছি।’ তিনি জানতে চান, ‘বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের অস্তিত্বের হুমকি রয়েছে। সুতরাং আমরা একটি উন্নত, শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে পারি যেখানে বৈষম্য থাকবে না।’
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ বলেন, ‘১৯৯১ সাল থেকে আমরা একসঙ্গে নির্বাচন ও আন্দোলন করে আসছি, এবং আমাদের ঐক্য অটুট থাকবে।’
এ চলাকালীন, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পৌর অডিটরিয়ামে প্রাণবন্ত আলোচনায় রূপান্তরিত হয়। ইজ্জত উল্লাহ শাহাদাতবরণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘তাদের ত্যাগের জন্যই আজ আমরা এখানে মুক্ত পরিবেশে ইফতার করতে পারছি।
১২২ বার পড়া হয়েছে