হাসিনাবিরোধী জনরোষ সম্পর্কে ভারত জানত, কিন্তু তেমন কিছু করার ছিল না, বললেন জয়শঙ্কর

রবিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৫ ২:৩৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও ভারত সেই পরিস্থিতিতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আগে বাংলাদেশের সঙ্কটের বিষয়ে ভারত সচেতন ছিল, কিন্তু তাদের ‘পরামর্শ’ দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার ক্ষমতা ছিল না।
নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক পরামর্শক কমিটির সভায় জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের অন্যান্য প্রধান অংশীদারের মতো বাংলাদেশের ভেতরের দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনার খবরও দেশের প্রশাসনের কাছে ছিল। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্কের বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিলেন যে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে না জড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সভায় জয়শঙ্কর জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করায় বাংলাদেশ, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান ইত্যাদির অবস্থা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন স্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অভিযোগ সম্পর্কে।
শেখ হাসিনার সরকার উৎখাত হওয়া পরপর ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচনা শুরু হলেও, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে উভয় দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা রয়েছে।
জয়শঙ্কর আরও জানিয়েছে, বিমসটেকের আসন্ন সম্মেলনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হতে পারে, যেটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক চিঠির মাধ্যমে প্রস্তাবিত হয়েছে।
আলোচনার অন্তর্ভুক্ত বিষয় ছিল বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা। সংসদ সদস্যরা এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারত কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চান। জয়শঙ্কর বলেন, এসব হামলার পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে, ধর্মীয় বৈষম্য নয়।
এভাবে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির প্রয়াস চলছে, যেখান থেকে দুই কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে প্রথম বৈঠক হওয়ার আশা দেখা দিয়েছে।
১৪২ বার পড়া হয়েছে