ভারতে মোগল শাসক আওরঙ্গজেবকে নিয়ে এখন কেন এত বিতর্ক

শনিবার, ২২ মার্চ, ২০২৫ ৯:১০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতে মোগল শাসক আওরঙ্গজেব সম্পর্কে বর্তমানে যে বিতর্ক চলছে, তার পেছনে রয়েছে একটি দীর্ঘ এবং জটিল ইতিহাস। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের নাগপুর শহরে তার সমাধি সরানোর দাবিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা হিন্দু এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলো আওরঙ্গজেবের সমাধি, যা একটি সময়ে আওরঙ্গবাদ নামে পরিচিত ছিল এবং এখন যথাক্রমে ছত্রপতি শিবাজির নামে নামকরণ করা হয়েছে।
আওরঙ্গজেব, যিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে ভারতের শাসক ছিলেন, তাকে ধর্মীয় বৈষম্যের জন্য অভিযুক্ত করে অনেকেই তাঁর সমালোচনা করেন। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে আওরঙ্গজেব তাঁর শাসনামলে হিন্দু ধর্মস্থানগুলো ধ্বংস করেছেন। সম্প্রতি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং অন্যান্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভে আওরঙ্গজেবের বর্ণনা সাম্প্রতিক চলচ্চিত্রগুলির মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা এবং ইতিহাসের বিকৃত ব্যাখ্যা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।
নাগপুরের ঘটনার পর শহরে অশান্তি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রশাসন কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়। এতে করে স্থানীয় মুসলিম জনগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, এবং অনেকে পুলিশের ব্যাপারে আতঙ্কিত। পরিস্থিতি এবং গুজবের ভিত্তিতে পুলিশ কর্তৃপক্ষ নিরীহ মুসলিমদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে।
একদিকে, হিন্দুত্ববাদীরা আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে; অন্যদিকে, ইতিহাসবিদরা তার প্রশাসনের নানা দিক এবং রাজনৈতিক জটিলতাকে বের করে বলছেন যে কেন আওরঙ্গজেবের স্থায়ী প্রভাব এতো বেশি। বিভিন্ন ঐতিহাসিক লেখক ও গবেষকরা মন্তব্য করেছেন যে আওরঙ্গজেবের শাসনতন্ত্রের মধ্যে রাজনৈতিক দলিল এবং ইসলামী আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তার ভূমিকার অনেক দিক রয়েছে যা অনুধাবন করা হয়েছে।
ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে, আওরঙ্গজেবের প্রসঙ্গটি শুধুমাত্র ঐতিহাসিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বর্তমানে জাতীয় পরিচয়, সাম্প্রদায়িকতা এবং রাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে। ফলে, আওরঙ্গজেব সত্ত্বেও ভারতীয় সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হচ্ছে, যা সময়কাল ধরে চলমান একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুতরাং, প্রশ্ন উঠতে পারে—কেন আজকের ভারতে আওরঙ্গজেবকে নিয়ে এই বিতর্ক এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক মনোভাব এতো গভীরভাবে রক্তক্ষরণ করে চলছে? এবং এই বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে কীভাবে একটি সহিষ্ণু সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে?
১৬২ বার পড়া হয়েছে