প্রসবকালে নবজাতকের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন, তদন্ত কমিটি গঠন

বুধবার, ৫ মার্চ, ২০২৫ ১২:৪৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
এক প্রসূতির প্রসবকালে নবজাতকের মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালে।
তবে চিকিৎসকদের দাবি, নবজাতক গর্ভে থাকার সময়েই মারা গিয়েছে। সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে পেট থেকে নবজাতকের মাথা বের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৪ মার্চ) সকালে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের লেবার গাইনী ওয়ার্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জ্যেষ্ঠ গাইনী চিকিৎসক ডা. নার্গিস সুলতানাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা; তবে এখনও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ করা হয়নি। বর্তমানে ওই প্রসূতি হাসপাতালের লেবার গাইনী ওয়ার্ডের ২১ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগী মহিলা শিউলী খাতুন (৩৫), পাবনার আতাইকুলা ইউনিয়নের আতাইকুলা গ্রামের দুবাই প্রবাসী রমজান খাঁর স্ত্রী। শিউলী খাতুন তৃতীয় সন্তানের গর্ভবতী ছিলেন।
হাসপাতাল ও রোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গর্ভবতী ওই নারী প্রথম থেকেই পাবনার গাইনী চিকিৎসক শাহীন ফেরদৌস শানুর নিয়মিত রোগী ছিলেন। মঙ্গলবার ভোররাতে প্রসব ব্যথা শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. দীপা মর্জিনা প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানান, নবজাতক মৃত।
পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি। হাসপাতালের ধাত্রী নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করার সময় নবজাতকের মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পেটে রয়ে যায়, যা পরে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে বের করা হয়।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের হিসাবে, রোগীর বর্তমান অবস্থা ভালো। গত ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে; যা সাত কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেবে এবং পরে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, হাসপাতালে রাত বা সকালে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের উচিত ছিল রোগীর পরিবারের সাথে কথা বলা আগে কাজ শুরুর। এই ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য অভিযুক্ত চিকিৎসকদের ডেকে কথা বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. নার্গিস সুলতানা বলেন, ওই নারীর পেটে যে বাচ্চাটি ছিল সেটি ফেলো অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তাই আমাদের প্রথমে মায়ের সেবা প্রদান সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, মৃত শিশুর বয়স কম এবং নরমাল প্রসবের সময় সেবিকাদের জোর টানে নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার আসল কারণ বের করার চেষ্টা চলছে।
১৩২ বার পড়া হয়েছে