সাতক্ষীরার আশাশুনিতে নদীর বাঁধে ৫শ' মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন

মঙ্গলবার, ৪ মার্চ, ২০২৫ ৯:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার সদর দিয়ে প্রবাহিত মরিচ্চাপ নদীর বাঁধে ৫০০ মিটার এলাকার একটি অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় পাঁচ গ্রামের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এ ভাঙন। নদী পাড়ের বাসিন্দারা দাবি করছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলার কারণে এই ভাঙন ঘটে।
স্থানীয় বাজার ও নদীর সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় যে, মধ্য চাপড়ায় মরিচ্চাপ নদী আক্রমণাত্মকভাবে ভাঙছে। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, তবে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নদী খননের জন্য নির্ধারিত নিয়মাবলী অনুসরণ না করার কারণে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৮০০ পরিবার ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছে। গত কয়েকদিনে নদীর তীর থেকে ৯০ ফুট জমি ও ৪টি বাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে। তাছাড়া আরও ১০টি বাড়ি ভাঙনের শিকার হতে পারে। নদীর তীরে অবস্থিত চাপড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা এবং শতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে। কিছু পরিবার কবরস্থানের পাশে ঝুপড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছে।
স্থানীয় নারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, তাদের সন্তানদের নিয়ে পরিবারগুলো রাতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারদের মধ্যে টাকা ভাগাভাগি হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
চাপড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিমানন্দ কুমার দাশ জানান, নদীর ভাঙনের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিপদময় অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, “ভাঙন ঠেকানো না গেলে স্কুলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে।”
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায় ভাঙনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে রয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানাতে পারেন যে, ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, নদী ভাঙনের কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যদি তারা ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব করে, তাহলে অচিরেই একটি গ্রাম তলিয়ে যেতে পারে।
১৪০ বার পড়া হয়েছে