চাকরিচ্যুত ৮৫ নির্বাচন কর্মকর্তাকে চাকরি ফেরত দেয়ার নির্দেশ

মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
১৮ বছর আগে, ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সময় চাকরিচ্যুত ৮৫ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে পুনর্বহাল করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আদালতের নির্দেশে এই কর্মকর্তাদের সব সুযোগ-সুবিধা পুনরুদ্ধার করতে বলা হয়েছে। এছাড়া, মামলা চলাকালীন মারা যাওয়া তিন কর্মকর্তার পরিবারের জন্যও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছে।
এর আগে, আপিল ও পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার দিন ঠিক করা হয়েছিল।
মামলার শুনানিতে আপিলকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন, পুনর্বিবেচনার পক্ষে প্রবীর নিয়োগী ও মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং রাষ্ট্রপক্ষা ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া শুনানি করেন।
আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে ৩২৭ জনকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে অস্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় এই নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ৩২৭ জনের মূল্যায়ন পরীক্ষা সম্পন্ন হয় এবং এর ফলস্বরূপ ৮৫ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরিচ্যুতদের মামলা করলে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ২০০৯ সালের ২৩ মার্চ তা খারিজ করে। এরপর তারা আপিল করে এবং ২০১০ সালের ১২ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল তাদের পুনর্বহাল করার পক্ষে রায় দেয়।
রাষ্ট্রপক্ষ ২০১০ সালের ২৯ এপ্রিল আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে, যা সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য পাঠানো হয়। এর পর, ২০১১ সালে সরকারপক্ষ পৃথক আপিল করে এবং ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সেই আপিল মঞ্জুর করে, ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল করে।
২০২২ সালের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে ২০২৩ সালে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা পাঁচটি আবেদন করেন। শুরুর শুনানি শেষে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত বছরের ৬ নভেম্বর এক লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে এবং আবেদনকারীদের সারসংক্ষেপ চার সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরবর্তীতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
১৭৩ বার পড়া হয়েছে